Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

ভেনিসের হামলা পেরিয়ে কঠিন সময়ের কথা জানালেন বাঁধন

ভেনিসের হামলা পেরিয়ে কঠিন সময়ের কথা জানালেন বাঁধন

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময় তাকে অনেক কিছু উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। একই সঙ্গে বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা

বাঁধন তার বার্তায় জীবনের দীর্ঘ ও কঠিন এক যাত্রার কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্যে, এই সময়ে তাকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর মধ্যে অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া এবং নিজের পরিচিত বা কাছের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতিও ছিল।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই সবচেয়ে বড় সমর্থন আসে। কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।

বাঁধনের এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ভেনিসে হামলার ঘটনার পর তার পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

ভেনিসে হামলার অভিযোগ

এর আগে ইতালির ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বাঁধন। তিনি জানিয়েছিলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে অবস্থানের সময় একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে পানি ও কোমলপানীয় ছুড়ে মারেন। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সময় বাঁধনের সঙ্গে তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। একটি শিশুও সেখানে ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনার পর পুলিশ এসে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ

হামলার পর বাঁধন জানিয়েছিলেন, ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে তিনি ভেনিস ছাড়তে চান না। তিনি পুলিশের সহযোগিতায় অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলানের সহায়তায় মেস্ত্রে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ভেনিস পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা দল ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ঘটনার পর বাঁধনের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা করা হয়। পুলিশি সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এতে কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি একা নন—এমন একটি সহায়তার পরিবেশ তৈরি হয়।

পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

নতুন বার্তায় বাঁধন বিশেষভাবে বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের সহযোগিতাকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন।

বাঁধনের বক্তব্যে উঠে এসেছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তাকে শক্তি দিয়েছে। অপমান, হয়রানি কিংবা কঠিন অভিজ্ঞতা তার যাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি—বরং এসব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নতুন উপলব্ধি অর্জনের কথা জানিয়েছেন।

চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব

রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন বাঁধন। সিনেমাটির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীকে ঘিরে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

তবে উৎসবে অংশ নেওয়ার এই সফরই পরবর্তীতে হামলার ঘটনার কারণে ভিন্ন মাত্রা পায়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং ব্যক্তিগতভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া—সব মিলিয়ে ভেনিস সফরটি বাঁধনের জন্য স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।

নিজের সর্বশেষ বার্তায় তিনি সেই কঠিন অভিজ্ঞতার দিকেই ফিরে তাকিয়েছেন। জীবনের প্রতিকূলতা, অপমান ও হয়রানির মধ্যেও অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে পাওয়া সমর্থনের বিষয়টি সামনে এনে বাঁধন যেন তার অভিজ্ঞতার একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন। তার এই বার্তা ভেনিসের সাম্প্রতিক ঘটনার পর তার মানসিক দৃঢ়তারই প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে।