Loading...

  • 26 Jul, 2026

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোনায় বাড়ছে বন্যার শঙ্কা, ৪ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোনায় বাড়ছে বন্যার শঙ্কা, ৪ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারার পানি সামান্য কমেছে। তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে উভয় নদীর পানিই আবার বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে এফএফডব্লিউসি।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নতুন করে বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনাগঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। এ সময় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।