পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে All India Trinamool Congress (তৃণমূল কংগ্রেস)। দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV।
শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ১৯ জন সাংসদ দলীয় প্রধান Mamata Banerjee-এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি চিঠিতে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যেখানে তারা দল থেকে পৃথক অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ ও ইউসুফ পাঠানের মতো পরিচিত মুখদের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকার Om Birla-এর কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের আলাদা অবস্থানের কথা জানান। এরপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয় হুইপ পরিবর্তনের জন্য পৃথক চিঠি পাঠানো হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো দলের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সাংসদ আলাদা হলে তারা পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। বিদ্রোহী শিবির দাবি করছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সমর্থন তাদের হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ এই সংকট নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন, বিজেপির রাজনৈতিক চাপ ও প্রলোভনের মাধ্যমে কিছু সাংসদকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি এটিকে বিজেপির কথিত ‘অপারেশন লোটাস’-এর অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
দলীয় অস্থিরতার পেছনে নেতৃত্বের ধরন, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো ভাঙনের বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।