দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করেছে সরকার। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতির প্রবণতা কমবে বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হয়নি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল। এরপর প্রায় ১১ বছর কেটে গেলেও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ১:৯.০৭৬। সরকারের মতে, এতে বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কিছুটা কমবে। অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে ৬৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সহায়ক হবে এবং প্রশাসনের দক্ষতা ও কর্মপ্রেরণা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারি সেবার মান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেলের উল্লেখযোগ্য বেতন কাঠামো:
গ্রেড ১: ১,৬০,০০০ টাকা
গ্রেড ৫: ৮৬,০০০ টাকা
গ্রেড ১০: ৩২,০০০ টাকা
গ্রেড ১৫: ২২,৮০০ টাকা
গ্রেড ২০: ২০,০০০ টাকা