Loading...

  • 13 Jun, 2026

মিঠাপুকুরে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০ গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

মিঠাপুকুরে সামাজিক বনায়নের প্রায় ৫০ গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

রংপুরের Mithapukur Upazila উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো প্রায় অর্ধশত গাছ কেটে গোপনে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝড়ে কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এসব গাছ কাটা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনতালারহাট থেকে লতিবপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় ইউক্লিপটাস গাছ রোপণ করা ছিল। সম্প্রতি ঝড়ে কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়লেও পরবর্তীতে আরও প্রায় ৫০টি মোটা গাছ কেটে ফেলা হয় এবং সেগুলো স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গাছগুলো কাটার পর গোপনে বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি কাঠ ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম নির্ধারণ করা হয় এবং অগ্রিম ১০ হাজার টাকা বায়না নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী তুষার মিয়া।

ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দুইজন রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে—লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি সাফায়াত আলী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব মিয়া। তবে উভয়েই অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান, সরকারি জমির গাছ কাটার কোনো অনুমতি ছিল না এবং বিষয়টি জানার পর তিনি বাধা দিলেও তা মানা হয়নি। তার ভাষায়, “যে গাছ লাগাক না কেন, জমি সরকারি হলে অনুমতি ছাড়া কাটার সুযোগ নেই।”

অভিযুক্ত সাফায়াত আলী দাবি করেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছগুলোই কাটা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত গাছ কাটার অভিযোগ এবং অর্থ লেনদেনের বিষয় তিনি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা বিপ্লব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

লতিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রাস্তার গাছ কাটতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে করতে হবে এবং কোনো অনিয়মকে দল সমর্থন করে না।

এ বিষয়ে Md. Ashik Zaman বলেন, সরকারি জমিতে রোপিত গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ আইন লঙ্ঘন করে গাছ কেটে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে গাছ কাটার ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালীদের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

মিঠাপুকুর, রংপুর, লতিবপুর ইউনিয়ন, সামাজিক বনায়ন, গাছ কাটা, ইউক্লিপটাস গাছ, সরকারি জমি, পরিবেশ, দুর্নীতি অভিযোগ, স্থানীয় রাজনীতি, জামায়াতে ইসলামী, আওয়ামী লীগ, কাঠ ব্যবসা, ভূমি অফিস, বাংলাদেশ সংবাদ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy