Loading...

  • 26 Jul, 2026

স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রী শিল্পীর মৃত্যুদণ্ড

স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রী শিল্পীর মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার বহুল আলোচিত মামলায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অভিযোগে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির জানান, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া মরদেহ গুমের দায়ে পৃথকভাবে সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে একটি ড্রামের ভেতর এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা পরিবহনের কাউন্টারের কাছে একটি ব্যাগ থেকে নিহত ব্যক্তির দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে নিহতের শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে ফাতেমার বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে পরিচয় গোপন রাখা যায়।

ঘটনার পর ১ জুন নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষে ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।