সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বনদস্যু হিসেবে পরিচিত ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে কোস্টগার্ডের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযানের একপর্যায়ে বাহিনীটির প্রধান হিসেবে পরিচিত রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে Sundarbans-এর বন বিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্টগার্ডের দাবি, অভিযানের সময় তাদের সদস্যদের সঙ্গে বনদস্যুদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে গুলিবিদ্ধ রবিউল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য Khulna Medical College Hospital-এ নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে আবারও কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলামের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, রবিউল ইসলাম সুন্দরবনকেন্দ্রিক কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় সুন্দরবনে ‘ইলিয়াস বাহিনী’ নামে একটি বনদস্যু চক্র সক্রিয় ছিল। এর প্রধান নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালে তার ভগ্নিপতি রবিউল ইসলাম নতুন করে একটি দল গঠন করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যে দলটি ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।
ঘটনার বিষয়ে Shah Alam বলেন, বনের ভেতরে গোলাগুলির ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। তবে পুরো অভিযান কোস্টগার্ড পরিচালনা করায় বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই।
অন্যদিকে, সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক Shariful Islam জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। তবে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকেই জানানো হবে।
কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহভাজন ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয় এবং একপর্যায়ে রবিউল ইসলামকে আহত অবস্থায় আটক করা সম্ভব হয়।
তারা আরও জানান, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের একটি অংশ এখনও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অভিযান সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধার, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সুন্দরবন অঞ্চলে বনদস্যুতা, চাঁদাবাজি, জেলে ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান ওই অঞ্চলে অপরাধী চক্রগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।