বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটির আগে বড় ধরনের অস্থিরতায় পড়েছে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল। গ্রুপ এইচে স্পেনের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচের প্রাক্কালে দলের প্রধান কোচ Marcelo Bielsa-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার বলে দাবি করেছে উরুগুয়ের একটি গণমাধ্যম।
স্থানীয় রেডিও স্টেশন Espectador Deportes-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের তারকা মিডফিল্ডার Federico Valverde এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার Sergio Rochet-সহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় কোচের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও ম্যাচ কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে তারা কোচের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের দাবি জানান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Manuel Ugarte এবং Rodrigo Bentancur। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত শারীরিক অনুশীলনের কারণে দলে একাধিক ফুটবলার চোটে আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অপেক্ষাকৃত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণেরও পরামর্শ দেন তারা।
খেলোয়াড়দের মতে, নিচু রক্ষণভাগ গড়ে পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশল গ্রহণ করলে স্পেনের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে কোচ বিয়েলসা তাদের এই প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরিবর্তে পুরো দলকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন উরুগুয়ের এই কোচ। প্রায় ৪৮ মিনিটের সেই আলোচনায় তিনি নিজের কৌশলগত পরিকল্পনা, খেলার দর্শন এবং ম্যাচের রণকৌশল ব্যাখ্যা করেন। প্রতিবেদনের দাবি, বিয়েলসা খেলোয়াড়দের জানিয়েছেন যে দলটি নির্দিষ্ট কৌশলগত বিন্যাসে মাঠে নামবে এবং পরিকল্পনা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না।
এ সময় কোচ অভিযোগ করেন, তিনি অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড Luis Suarez-কে দলে না রাখা এবং Mathias Nandez-কে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তের কারণে কিছু খেলোয়াড় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
রেডিও প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিয়েলসা কয়েকজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার গঠনে নিজের অবদানের কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে Martin Caceres এবং Maximiliano Araujo-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি। এতে কিছু খেলোয়াড় ক্ষুব্ধ হয়ে বৈঠক মাঝপথে ত্যাগ করেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেন দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার Jose Maria Gimenez। তবে তার মধ্যস্থতার উদ্যোগও সফল হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে উরুগুয়ের ওই রেডিও চ্যানেলটি আরও জানিয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের একজন পরিচালক পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই বিয়েলসা জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।
তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। স্পেন ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। একইভাবে দলের ফরোয়ার্ড Rodrigo Aguirre-ও বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের কেউ কিংবা Uruguayan Football Association এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। ফলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই পরিস্থিতি উরুগুয়ে দলের প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।