Loading...

  • 26 Jul, 2026

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া চুক্তি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া চুক্তি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চুক্তি নিয়ে আলোচনা ২০২৫ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়েছিল। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এতে স্বাক্ষর করেননি। একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কিছু সদস্যের বিরোধিতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হলেও, একই প্রযুক্তি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি সীমিত হয়ে যেতে পারে।

এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে। সেই বক্তব্যের পর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি আলোচনায় আসে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০০৯ সালে যেভাবে আন্তর্জাতিক কঠোর শর্ত মেনে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করেছিল, সেটিই ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোর শর্ত অনুসরণ না করলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দুর্বল হতে পারে।

অন্যদিকে চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, এই সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পের বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সহযোগিতা না করে, তাহলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে একই ধরনের প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে।

তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।