দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তবে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সার মজুতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার কারণ নেই। সরকার নিয়মিতভাবে সার সরবরাহ, পরিবহন ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কোথাও অস্বাভাবিক মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে সারের সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারের মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো কোনো মহল বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছে না—এমন গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে কৃষকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হতে পারে এবং কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার কিনে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। এর সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সার মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করতে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কৃষকদের এমন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদিত ডিলার ও নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সার কিনে মজুত না করার জন্যও কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এসব সারের নিয়মিত সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে সার্বিক সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা ও মজুতের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও জরুরি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। উৎপাদন ব্যাহত হয় বা কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হয়—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্রিয় থাকতে হবে। ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম নেওয়া কিংবা অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ফসলের ফলনের ওপর। তাই চাহিদার সময় কৃষকদের হাতে পর্যাপ্ত সার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে গুজব ও মজুতদারি ঠেকানো জরুরি। বিশেষ করে কৃষি মৌসুমের আগে বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি থাকলে অসাধু চক্রের কারসাজির সুযোগ কমে যায়।
কৃষকদের স্বার্থে সরকার সার সরবরাহের পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। তার মতে, দেশে পর্যাপ্ত সার থাকার পরও যদি কোনো গোষ্ঠী মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে কৃষকদের মধ্যে কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, অবৈধ মজুত বা সরবরাহে অনিয়মের মুখোমুখি হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকের ক্ষতি করার চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ পরিকল্পনা রয়েছে, ফলে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সব মিলিয়ে, দেশে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই—এমন আশ্বাস দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অসাধু চক্রের মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।