দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। তবে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার দলটিকে মোকাবিলা করতে হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল পর্তুগালকে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৭ জুন) রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী কঙ্গোর খেলোয়াড়রা। তারা বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দৃঢ় মানসিকতা থাকলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।
ডিআর কঙ্গো সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৭৪ সালে। সে সময় দেশটির নাম ছিল ‘জায়ার’। এরপর দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় বিশ্বকাপের মূল পর্বে দেখা যায়নি আফ্রিকার দেশটিকে। এবারের আসরে ফিরে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কঙ্গোর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসা বলেন, পর্তুগাল নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদারদের মধ্যে অন্যতম। তাই তাদের বিপক্ষে ভালো ফল পেতে হলে দলকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “পর্তুগাল একটি অসাধারণ দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে হলে আমাদের আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই করতে হবে। আমরা জানি ম্যাচটি কঠিন হবে, কিন্তু আমরা নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখি।”
বর্তমান পর্তুগাল দলটি তারকায় ঠাসা। কিংবদন্তি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশাপাশি ব্রুনো ফের্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া, রাফায়েল লেয়াও এবং জোয়াও ফেলিক্সের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা রয়েছেন দলে। ফলে প্রতিটি বিভাগেই ইউরোপীয় দলটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
রোনালদোকে নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে গিয়ে উইসা তার শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করেন, ইংল্যান্ডে খেলার সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে থাকা রোনালদোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা। ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে মাঠে নামার সময় তিনি পর্তুগিজ তারকার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
উইসা বলেন, “রোনালদো বিশ্বের লাখো ফুটবলারের অনুপ্রেরণা। তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে দেখে অনেকেই ফুটবল খেলতে শুরু করেছে। আমার জন্যও তিনি অন্যতম আদর্শ ফুটবলার।”
তবে শ্রদ্ধা থাকলেও মাঠে কোনো ছাড় দিতে চান না কঙ্গোর এই ফরোয়ার্ড। তার ভাষায়, “আমরা তাকে সম্মান করি, কিন্তু মাঠে আমরা তার চোখে চোখ রেখে লড়াই করব। আশা করি, ম্যাচ শেষে আমরা ইতিবাচক ফল নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারব।”
বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগাল ম্যাচের স্পষ্ট ফেবারিট হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অতীতে বহু অঘটনের নজির রয়েছে। সেই ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই মাঠে নামবে ডিআর কঙ্গো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে রয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে পর্তুগালও টুর্নামেন্টে শক্তিশালী সূচনা করতে চায়। ফলে দুই দলের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও ম্যাচটি যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।