Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

‘রোগা হলেও সমস্যা, মোটা হলেও সমস্যা’—বডি শেমিং নিয়ে মুখ খুললেন শেহনাজ গিল

‘রোগা হলেও সমস্যা, মোটা হলেও সমস্যা’—বডি শেমিং নিয়ে মুখ খুললেন শেহনাজ গিল

শরীরের গঠন ও চেহারা নিয়ে দীর্ঘদিনের ট্রোলিং এবং কটাক্ষের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী শেহনাজ গিল। ‘বিগ বস ১৩’-এর সময় থেকেই শারীরিক গঠন, ওজন এবং কথা বলার ধরন নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শেহনাজ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নারীকে কেন নির্দিষ্ট ধরনের শারীরিক গড়নেই সুন্দর হতে হবে?

শরীর নিয়ে ব্যাপক ট্রোলিং

‘বিগ বস ১৩’-এ অংশ নেওয়ার পর রাতারাতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান শেহনাজ গিল। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাকে তীব্র ট্রোলিংয়েরও শিকার হতে হয়। তার শারীরিক গঠন নিয়ে যেমন নানা মন্তব্য করা হয়েছিল, তেমনি পাঞ্জাবি উচ্চারণে হিন্দি বলার ধরন নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। এমনকি তাকে ‘অনপড়’ ও ‘গাঁওয়ার’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছিল বলে জানান অভিনেত্রী।

শেহনাজ জানিয়েছেন, ‘বিগ বস’-এ থাকার সময় তার শরীর এবং ভাষা—দুই বিষয় নিয়েই প্রচুর ট্রোলিং হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমালোচনাগুলোকে তিনি নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার মতে, মানুষের মন্তব্যের ওপর নিজের আত্মবিশ্বাস নির্ভর করা উচিত নয়।

ওজন বাড়া নিয়ে এখন আর অস্বস্তি নেই

‘বিগ বস’ থেকে বের হওয়ার পর শেহনাজ নিজের ওজন কমিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে ওজন কিছুটা বেড়ে গেলেও তা নিয়ে তিনি অস্বস্তিতে ভোগেন না। বরং নিজের শরীরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

শেহনাজের বক্তব্য, কয়েক কেজি ওজন বেড়ে গেলে তাতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যদি কেউ নিজের শরীরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং মনে করেন ওই অবস্থাতেই তাকে ভালো দেখাচ্ছে, তাহলে সেটিই তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই অবস্থান থেকেই অভিনেত্রী বডি শেমিংয়ের প্রচলিত ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, একজন মানুষকে দেখতে কেমন হবে, সেটি অন্য কেউ নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয় নয়।

‘সবার আওয়ারগ্লাস ফিগার হতে হবে কেন?’

শেহনাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—সব নারীকে কেন একই ধরনের শারীরিক গড়নের অধিকারী হতে হবে? তার মতে, প্রত্যেক মানুষের শরীরের গঠন আলাদা এবং সেই বৈচিত্র্যকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা উচিত।

তিনি মনে করেন, সৌন্দর্যের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি তৈরি করে সবাইকে তার সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা ঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর ও নিজের শরীরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণা বদলাতে হলে ভিন্ন ধরনের শারীরিক গঠনকেও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

সিনেমাতেও বদলেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি

‘ইশকনামা’ সিনেমায় কাজ করার সময়ও নিজের চেহারা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শেহনাজ। চরিত্রের প্রয়োজনে তার মুখ কিছুটা ভরাট দেখানোর জন্য পরিচালক মেকআপ আর্টিস্টকে মুখে কনট্যুর না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ তখন তার মুখ তুলনামূলকভাবে বেশি পাতলা দেখাচ্ছিল।

পর্দায় নিজের সেই লুক দেখার পর বরং সেটি পছন্দ হয়েছিল শেহনাজের। এই অভিজ্ঞতাও তার কাছে সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা থেকে ভিন্ন একটি উপলব্ধি তৈরি করেছে।

‘পৃথিবী আসলে কী চায়?’

শেহনাজ জানিয়েছেন, তিনি ওজন কমালে একদল মানুষ মন্তব্য করেন তাকে ভালো দেখাচ্ছে না। আবার ওজন কিছুটা বাড়লে অন্যরা তাকে মোটা হয়ে যাওয়ার জন্য কটাক্ষ করেন। এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তার বক্তব্যের সারকথা হলো, একজন মানুষ কীভাবে নিজের শরীরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের পছন্দ বা সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজের শরীরকে বারবার পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই।

শেহনাজ গিলের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই শুধু নিজের অভিজ্ঞতার কথাই উঠে আসেনি, বরং বডি শেমিং ও সৌন্দর্যের প্রচলিত মাপকাঠি নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মতে, শরীর সুস্থ থাকা এবং নিজের শরীর নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাই মূল বিষয়। অন্যের মন্তব্য দিয়ে নিজের সৌন্দর্য বা আত্মমূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই।