রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন— এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে এ বিষয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন সচিবের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খান-এর নামও বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
তবে নিজের নাম আলোচনায় থাকার বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার ভাষায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেকের নামই আলোচনায় আসতে পারে, এটি স্বাভাবিক বিষয়।
এদিকে বুধবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি আরও দাবি করেন, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি সরকারের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। তবে এই তথ্যেরও কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক আলোচনা ও বিভিন্ন সূত্রভিত্তিক তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।