Loading...

  • 13 Jun, 2026

রামিসা হত্যা মামলার শুনানি রোববার, নিজেই রাষ্ট্রপক্ষে লড়বেন অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যা মামলার শুনানি রোববার, নিজেই রাষ্ট্রপক্ষে লড়বেন অ্যাটর্নি জেনারেল

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আগামী রোববার হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে নিজেই শুনানিতে অংশ নেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল Ruhul Quddus Kajol। একই সঙ্গে শিশু রামিসাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত অন্যান্য হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার কার্যক্রম বিরতিহীনভাবে পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা জানান। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের মুলতবি আবেদন করা হবে না। বিচারপ্রক্রিয়া যাতে অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলা শুনানিতে কোনো মুলতবি আবেদন করবো না। বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।” তার এই বক্তব্য বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

এর আগে বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। রোববার থেকে বিচারপতি Bhishmadev Chakraborty এবং বিচারপতি K M Rasheduzzaman Raja-এর সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ বিচারকার্য পরিচালনা করবে।

জানা গেছে, শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দলের নেতৃত্ব দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে বিশেষ টিমে থাকবেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ওসমান চৌধুরী, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিউল হক ফয়সাল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন।

গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে সংঘটিত বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায়ের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক Masrur Saleqin রায়ে স্বাক্ষর করার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়। আদালতের রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়াকে ডেথ রেফারেন্স বলা হয়। বিচারিক নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং নিম্ন আদালতের রায় পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, পরিবর্তন করা অথবা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রামিসা হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। নিষ্ঠুর এই ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির মাধ্যমে মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত ও বিরতিহীন শুনানির ঘোষণা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সরাসরি অংশগ্রহণ মামলাটিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ার পরবর্তী অগ্রগতি এখন হাইকোর্টের শুনানির ওপর নির্ভর করছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy