Loading...

  • 13 Jun, 2026

নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর, বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা

নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর, বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা

দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পটুয়াখালী অঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানী ঢাকায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখার যুগ্মসচিব ড. মো. মোকছেদ আলী এবং চীনের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর সং ইয়াং চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটার এলাকায় লোহালিয়া নদীর ওপর নির্মিত হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় অবস্থিত বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে এই সেতুর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার লাখো মানুষ যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য বগা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, মাছ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনে ফেরিঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে ফেরির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সময় ও ব্যয়ের যে সমস্যা রয়েছে, সেতুটি নির্মিত হলে তার বড় ধরনের সমাধান হবে।

প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার এবং সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার। আধুনিক প্রকৌশল মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অনুদান হিসেবে প্রদান করবে চীন সরকার। ফলে প্রকল্পের অবকাঠামোগত নির্মাণ ব্যয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপে চীন সরকারের মনোনীত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইলড ডিজাইন) প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করবে। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন ও প্রক্রিয়াগত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব Dr. Mohammad Ziaul Haque এবং Yao Wen উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া Economic Relations Division (ইআরডি), Roads and Highways Department (আরএইচডি), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং চীন সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও সম্প্রসারিত করবে। সেতুটি চালু হলে যাতায়াত সময় কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy