পবিত্র মক্কা নগরীর কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। ভিডিওটির সঙ্গে মক্কার আকাশে হুতিদের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার যে দাবি করা হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয়। ভিডিওটি অন্তত এক বছর আগের এবং এটি মক্কা নয়, মদিনা শহরের একটি পুরোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায় ভিডিও
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে আকাশে একটি ড্রোন বা উড়ন্ত বস্তুকে লক্ষ্য করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করার সময় বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, পবিত্র মক্কা নগরীর কাছাকাছি এলাকায় হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
পবিত্র মক্কার নাম যুক্ত থাকায় ভিডিওটি দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই ভিডিওটি সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করেন। এর ফলে ভিডিওটির প্রকৃত সময় ও স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তবে যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি নতুন নয়। এটি অন্তত এক বছর আগে ধারণ করা হয়েছিল এবং ভিডিওটির ঘটনাস্থল মক্কা নয়। পুরোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করার কারণেই এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
মক্কার নয়, মদিনার পুরোনো ঘটনা
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে মক্কার আকাশে ড্রোন হামলার যে দাবি করা হয়েছে, যাচাই করা তথ্য তার সঙ্গে মিলছে না। ভিডিওটি মদিনা শহরের একটি পুরোনো ঘটনার। অর্থাৎ ভিডিওটির দৃশ্য বাস্তব কোনো ঘটনার হলেও সেটিকে ভিন্ন সময় ও ভিন্ন স্থানের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভুল তথ্য শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো ভিডিওর দৃশ্য বাস্তব কি না, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই ভিডিও পুরোনো কোনো ঘটনার হলেও সেটিকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রকাশ করা হলে তা বিভ্রান্তিকর তথ্য হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
এই ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অন্তত এক বছর আগের একটি ভিডিওকে সাম্প্রতিক বলে প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল হিসেবে মক্কার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাচাইয়ের পর দেখা যাচ্ছে, এই দুটি দাবিই ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পুরোনো ভিডিও নতুন দাবিতে প্রচারের কারণেই বিভ্রান্তি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় পুরোনো ছবি ও ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল ঘটনার সময় আগের ভিডিও পুনরায় সামনে এলে তা দ্রুত নতুন ঘটনার দৃশ্য হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভিডিওর উৎস, প্রকাশের সময় এবং মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।
মক্কার আকাশে হুতিদের ড্রোন হামলার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। ভিডিওটি এক বছর আগের হওয়ায় এটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। একই সঙ্গে ভিডিওটি মদিনার পুরোনো ঘটনার হওয়ায় মক্কার সঙ্গে এর সম্পর্ক স্থাপনের দাবিও বিভ্রান্তিকর।
যাচাই ছাড়া ভিডিও শেয়ার না করার পরামর্শ
কোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেই সেটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে যুদ্ধ, সংঘাত, হামলা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো দৃশ্য হলে এর প্রকৃত সময় ও স্থান যাচাই করা প্রয়োজন। পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলে তা মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
মক্কার আকাশে হুতিদের ড্রোন হামলার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওটির ক্ষেত্রেও যাচাইয়ে একই বিষয় সামনে এসেছে। ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়; এটি অন্তত এক বছর আগের। পাশাপাশি এটি মক্কার নয়, মদিনা শহরের একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে ভিডিওটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটের মিল নেই।
তাই কোনো ভাইরাল ভিডিওকে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার বা শেয়ার করার আগে সেটির উৎস, সময় ও স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান কিংবা আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সংবেদনশীল বিষয় জড়িত থাকলে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।