Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ-সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে মাকসুদ কামাল ও জাফর ইকবালের পাশাপাশি সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন এবং ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনানের নামও রয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলো যাচাই করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে তার ভূমিকা নিয়ে এর আগে বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগ সামনে আসে। একইভাবে জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন করে তাদের নাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত তদন্তে আসায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে উপস্থাপিত হতে পারে। অভিযোগের ধরন, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে তুলে ধরার পর মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।

এদিকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে।

এর আগে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মাকসুদ কামালের কথোপকথনের একটি অডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। তবে কোনো অডিও, বক্তব্য বা নথির আইনি গ্রহণযোগ্যতা এবং তা অভিযোগ প্রমাণে কতটা প্রাসঙ্গিক—এসব বিষয় আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বর্তমানে মাকসুদ কামাল, জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এরপর প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে। অভিযোগের ভিত্তি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রমাণ পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হবে।