খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালতে নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা–দোকানি মো. শাহিনকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে মাত্র এক বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং এই রায় সমাজে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি এবং আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এদিকে স্থানীয়দের আশা, এ ধরনের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে।