Loading...

  • 26 Jul, 2026

জাতীয় অবকাঠামোয় হামলা হলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

জাতীয় অবকাঠামোয় হামলা হলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার জবাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর। তিনি বলেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তার জন্য দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (১০ জুলাই) মেহের নিউজের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আনাদুলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এক বিবৃতিতে মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এসব অপরাধের জন্য দায়ী জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা আমাদের যোদ্ধাদের পাল্টা হামলা থেকে কোনোভাবেই নিরাপদ থাকবে না।”

গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর আগে গত ১৭ জুন উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনার পথ তৈরি করা। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইরানের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়ে শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেহরানের দাবি, রাজধানী তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত সড়ক, সেতু এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে আড়াল করা।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, অভিযানে প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলে এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।