জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের চলমান ও পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, র্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আটজন এবং ইতিহাস বিভাগের ১২ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুই বিভাগের জরিমানার পরিমাণ মিলিয়ে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জুলাই রাতে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করেন। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের মধ্যে ছিল অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরিয়ে ওঠবস করানো। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইতিহাস বিভাগের ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই দিবাগত রাতে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তাদের গালাগাল, কান ধরানো এবং ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র্যাগিং করা হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
শাস্তির অংশ হিসেবে শুধু অর্থদণ্ডই নয়, জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগও স্থগিত রাখা হয়েছে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি থাকবে না, যতক্ষণ না জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে। র্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল ও একাডেমিক পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্তে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
দুই পৃথক ঘটনায় মোট ২০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরীক্ষা স্থগিতের ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়টির শৃঙ্খলা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে উল্লেখিত তথ্যই এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটিও নজরে থাকবে।