বুধবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ৭ ও ৮ জুলাই দেশটির পাঁচটি প্রদেশে চালানো হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তেহরান রেল করিডরের কিছু অংশেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বুশেহরের পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশেও হামলার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা উত্তেজনার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ তুলে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলার সতর্কতা জারি করা হলে দেশটিতে একাধিকবার সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময়ে কুয়েত ও কাতারের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমার দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উল্লেখ্য, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে।