Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

‘হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালের দুর্নীতি থাকবে’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালের দুর্নীতি থাকবে’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালের দুর্নীতি থাকবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই হাসপাতালকেন্দ্রিক কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি বা সেবাবঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে রোগীদের অভিযোগ থাকে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সেবার মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না—এমন বার্তাই তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করা হলে স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি বার্তা দিয়েছেন।

তার এই বক্তব্যকে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্নীতি বন্ধে ঘোষিত অবস্থান বাস্তবায়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা কার্যকর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। হাসপাতালগুলোতে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করাই এখন সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দায়িত্ব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দুর্নীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি যে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন, তাতে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে।