Loading...

  • 27 Jun, 2026

হিল্লা বিয়ে কি ইসলামসম্মত? কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা

হিল্লা বিয়ে কি ইসলামসম্মত? কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা

মুসলিম সমাজে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি বিষয় হলো ‘হিল্লা বিয়ে’। অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে, কোনো নারী তার স্বামীর কাছ থেকে তিন তালাক পাওয়ার পর অন্য একজন পুরুষকে সাময়িকভাবে বিয়ে করে তালাক নিয়ে আবার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারেন। তবে ইসলামি শরিয়তের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিকল্পিত বা চুক্তিভিত্তিক হিল্লা বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম এবং কঠোরভাবে নিন্দিত।

ইসলামি ফিকহবিদ ও গবেষকদের মতে, বর্তমানে সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ের অর্থ হলো—তিন তালাকপ্রাপ্ত একজন নারীকে পূর্বস্বামীর সঙ্গে পুনরায় বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে সাময়িক বা শর্তসাপেক্ষ বিয়ে দেওয়া। পরবর্তীতে তাকে তালাক দিয়ে আবার প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের বিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

পবিত্র কুরআনের Al-Quran-এর সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে তৃতীয়বার তালাক দেয়, তাহলে ওই নারী তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না তিনি অন্য একজন পুরুষকে স্বাভাবিকভাবে বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন হলে এবং উভয় পক্ষ আল্লাহর বিধান মেনে চলতে সক্ষম বলে মনে করলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন।

ইসলামি চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই আয়াতে কোথাও পরিকল্পিত বা পূর্বনির্ধারিত ‘হিল্লা বিয়ে’র অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বরং দ্বিতীয় বিয়েটি হতে হবে প্রকৃত সংসার জীবনের উদ্দেশ্যে এবং স্বাভাবিকভাবে সংঘটিত। শুধুমাত্র প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে করা বিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিসেও হিল্লা বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। Muhammad (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ লানত করেছেন হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়ের ওপর।” (সুনান আবু দাউদ: ২০৭৬, তিরমিজি: ১১২০)। অন্য বর্ণনায় হিল্লাকারী ব্যক্তিকে ‘ধার করা পাঁঠা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ প্রথার প্রতি তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

সাহাবায়ে কেরামও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। বর্ণনায় এসেছে, Umar ibn al-Khattab (রা.) পরিকল্পিত হিল্লা বিয়েকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

ইসলামি গবেষকদের মতে, যদি কোনো নারী তিন তালাকের পর স্বাভাবিকভাবে অন্য একজনকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক কারণে—যেমন তালাক বা স্বামীর মৃত্যু—শেষ হয়ে যায়, তাহলে ইদ্দত পূরণের পর তিনি চাইলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু শুরু থেকেই তালাকের শর্তে বা প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা বিয়ে শরিয়তসম্মত নয়।

বাংলাদেশেও পরিকল্পিত হিল্লা বিয়ের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। Muslim Family Laws Ordinance 1961-এর আলোকে এ ধরনের বিয়ে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসলামি আলেমদের মতে, হিল্লা বিয়ের নামে প্রচলিত কুপ্রথা ইসলামের পারিবারিক ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং এটি সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাই কুরআন, হাদিস ও ফিকহের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যার আলোকে মুসলমানদের এ ধরনের পরিকল্পিত বিয়ে থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy