Loading...

  • 10 Jun, 2026

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাছাড়া মানুষের ভিড়, ফাঁকা রাজধানীতে স্বস্তির যাত্রা

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাছাড়া মানুষের ভিড়, ফাঁকা রাজধানীতে স্বস্তির যাত্রা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা ও কোলাহলমুক্ত। বছরের অন্যান্য সময়ের ব্যস্ত নগরী যেন হঠাৎ করেই শান্ত ও নিরিবিলি হয়ে উঠেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় যানবাহনের চাপ তুলনামূলক অনেক কম। তবে ঢাকায় মানুষের উপস্থিতি কমে গেলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য এখনো বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যারা চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে ঈদের আগে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি, তারা ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়ছেন। সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে বাড়িমুখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকে হাতে ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট ও উপহারের সামগ্রী নিয়ে পরিবারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ঈদের পরের যাত্রা তুলনামূলক অনেক স্বস্তিদায়ক। সড়কে যানজট না থাকায় কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকায় যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

একজন যাত্রী জানান, ঈদের আগে অফিসের কাজের কারণে ছুটি পাননি। তাই ঈদের নামাজ ও প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা ঢাকাতেই শেষ করে শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, “রাস্তায় কোনো চাপ নেই। এবার অনেক আরামে যাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত বাড়ি পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবো।”

আরেক যাত্রী জানান, ঈদের দিন ঢাকায় আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানোর পর এখন গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, “ঈদের সময় পরিবারের সবাই একসঙ্গে হওয়াটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। তাই একটু দেরি হলেও বাড়ি যাচ্ছি।”

বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কম হলেও এখনো বাড়িমুখো মানুষের চাপ রয়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও রাতের বাসগুলোতে যাত্রী বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে অনলাইনে টিকিট কেটে যাত্রা করছেন, আবার কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করছেন।

এদিকে নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড় থেকেও যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখা গেছে। অনেক বাস মাঝপথ থেকে যাত্রী তুলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে যাত্রী কম থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। ব্যস্ততম সড়কগুলোতেও নেই চিরচেনা যানজট। অনেক দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পুরো শহরে ছুটির আবহ বিরাজ করছে। ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোতেও নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়েই বাড়িমুখো মানুষের যাতায়াত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ ছুটি নেই, তারা ঈদের পরের দিনগুলোতে ধাপে ধাপে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। আবার অনেকে ঈদের আনন্দ শেষে ঢাকায় ফিরতেও শুরু করবেন কয়েকদিনের মধ্যেই।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাছাড়া মানুষের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ফাঁকা রাজধানীতে স্বস্তিদায়ক পরিবেশের মধ্যেই প্রিয়জনদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই তাদের এই বাড়িমুখো যাত্রা।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy