Loading...

  • 26 Jul, 2026

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন? জেনে নিন পুরো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন? জেনে নিন পুরো সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে শুরু হবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সরকারি গেজেটে তফসিল প্রকাশ করবেন এবং একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা কী?

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে—

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে।
  • জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
  • একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

মনোনয়ন কীভাবে দেওয়া হয়?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হলে জাতীয় সংসদের একজন সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সদস্যকে সমর্থক হতে হবে।

একজন সংসদ সদস্য একাধিক প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থক হতে পারবেন না। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই করবে। বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগও থাকবে।

কারা ভোট দেন?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ জনগণ ভোট দেন না। কেবল জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই ভোটার হিসেবে অংশ নেন। অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ভোটগ্রহণ কীভাবে হয়?

যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদ ভবনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের বৈধ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, যাচাই-বাছাই শেষে যদি মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে কোনো ভোট ছাড়াই তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিনও একমাত্র বৈধ প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্পিকার কেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন?

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।