Loading...

  • 20 Sep, 2026
সর্বশেষ

হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

 

দেশে হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামজাতীয় উপসর্গ দেখা দেওয়ায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর চাপও বাড়ছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে কোনো এলাকায় হাম বা হামসদৃশ উপসর্গের রোগী শনাক্ত হলে দ্রুত আক্রান্তদের আলাদা রাখা, রোগী শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। হাম সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর অবস্থায় নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা নেওয়া। শিশুদের নির্ধারিত বয়সে টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো কারণে টিকা বাদ পড়লে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। টিকাদানের আওতা যত বেশি নিশ্চিত করা যায়, সংক্রমণের বিস্তার ততটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

নতুন করে সাতজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ পরীক্ষা ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হলে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে বিলম্ব না করে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

হামের উপসর্গ দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো রোগীর সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে অন্যদের আসা কমাতে পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

হাম উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও একটি সতর্ক সংকেত। আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি। কারণ হাম উপসর্গ থাকলেই প্রতিটি মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না; অন্যান্য সংক্রমণ বা জটিলতাও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এদিকে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের টিকা সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই করা, জ্বর ও ফুসকুড়িসহ হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে কিছুটা দূরে রাখা প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গুরুতর রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা যায়।

দেশে হাম উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে। টিকাদান নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।