Loading...

  • 26 Jul, 2026

‘গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, তোষামোদ নয়’—মির্জা ফখরুল

‘গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, তোষামোদ নয়’—মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তবে অতীতে সেই ভূমিকা পালনের পরিবর্তে অনেক গণমাধ্যম তোষামোদে ব্যস্ত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, এই সংস্কৃতি থেকে দেশ এখনো পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি।

রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা এবং এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, তোষামোদ ও মোসাহেবির সংস্কৃতি শুধু গণমাধ্যমেই নয়, রাজনীতি ও প্রশাসনেও বিদ্যমান। তিনি মন্তব্য করেন, এই প্রবণতা থেকে জাতিগতভাবে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। তবে কিছু বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে সংশ্লিষ্ট দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এই বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য নেই, সেগুলো সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত কমিটির সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশজুড়ে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এত দীর্ঘ সময়ের সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে লক্ষ্যেই সম্পাদকদের এই সংগঠন কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি ওয়াদার-এর সম্পাদক শফিকুল আলম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ভবিষ্যতেও বহমান থাকবে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় বহনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।