এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে তার এ সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সফরের শুরুতেই শি জিনপিংকে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানানোর পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে ওয়াশিংটনের কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা কূটনৈতিক প্রটোকলের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের সময় হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, শুল্ক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি বিরল মাটির খনিজ বা রেয়ার আর্থ উপাদানের সরবরাহ ও রপ্তানি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য রয়েছে। শুল্ক আরোপ, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যায়ে টানাপোড়েন দেখা গেছে। আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে নতুন সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর চীনের আরোপিত শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সফরের সময় আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের বিষয়টিও দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান, ইরান যুদ্ধ এবং চীনের কাছ থেকে ফেন্টানিল তৈরির উপাদান সরবরাহ বন্ধের মতো বিষয়ও আলোচনার সম্ভাব্য এজেন্ডায় রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
চলতি বছর মে মাসে ট্রাম্প চীন সফর করেছিলেন। ওই সফরের সময় শি জিনপিং ও ট্রাম্প বৈঠক করেন এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শিকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের মে মাসের এক বিবৃতিতেও শির যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবারের সফরে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আয়োজনও থাকবে। ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এ সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত আসে, তা নির্ভর করবে আলোচনার ফলাফল ও দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।