দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের শক্তি, আস্থা ও নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’। এতে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শিল্পায়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও শিল্প খাতকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের ঐক্য, সাহস ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে, যেখানে উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত হবে।