রোববার (২৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের জামুর্কি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ মানুষ। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাকার্যক্রম এবং দৈনন্দিন কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তীব্র গরমের এই সময়ে দিনে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা থাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও অফিস ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও ঘটনাস্থলে যান। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নয়নের আশ্বাস দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডি এ মতিন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
শিক্ষা খাতেও লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছেন শিক্ষকরা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে উপজেলার সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষার্থী এবং প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মির্জাপুরের দুটি জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু ময়মনসিংহ জোন থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখতে হচ্ছে। এছাড়া গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।
বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে।