Loading...

  • 26 Jul, 2026

দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস, চট্টগ্রাম-সিলেটে হতে পারে ভারী বর্ষণ

দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস, চট্টগ্রাম-সিলেটে হতে পারে ভারী বর্ষণ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে এসব অঞ্চলের নিচু এলাকা ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এবং তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের গরম কিছুটা কমলেও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে এখনও মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।

বর্তমানে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে এসব এলাকার কিছু স্থানে তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হারিয়ানা, পূর্ব রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে, যা বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সৈয়দপুরে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও রেকর্ড করা হয়েছে নিকলিতে। সেখানে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢাকায় শনিবার ভোর ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। এদিন রাজধানীতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বর্ষণপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল, নদীসংলগ্ন এলাকা এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানে বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।