সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দেওয়া অতিরিক্ত বোনাসের ১১৬ কোটি টাকা নিয়ে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা এখনো ব্যাংকের কাছে ফেরত আসেনি। প্রায় দেড় বছর ধরে এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বোনাস বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের একটি অংশকে নির্ধারিত বোনাসের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ওই অতিরিক্ত বোনাসের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে অর্থ ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেড় বছর পার হওয়ার পরও পুরো অর্থ ব্যাংকের হিসাবে ফেরত আসেনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক। সরকারি মালিকানাধীন এই ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নির্দিষ্ট নিয়ম ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো আর্থিক সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত বোনাস হিসেবে দেওয়া ১১৬ কোটি টাকা ফেরত না আসার বিষয়টি ব্যাংকের জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো অর্থ ভুলভাবে বা অতিরিক্ত হিসেবে বিতরণ করা হলে তা পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়া প্রয়োজন হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সেই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংকের হিসাব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিষয়টি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন তা পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া অতিরিক্ত বোনাস বিতরণ বা অর্থ ফেরত না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইভাবে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ হয়ে থাকলে সেটি শনাক্ত করার পর দ্রুত সমন্বয় বা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়াও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অংশ।
সোনালী ব্যাংকের অতিরিক্ত বোনাসের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি তাই শুধু ১১৬ কোটি টাকার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের কার্যকারিতার বিষয়ও জড়িত। দেড় বছর ধরে অর্থ ফেরত না আসার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে থাকলে এ অর্থ আদায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ধরনের আর্থিক বিষয়ে সঠিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হয়। তাই অতিরিক্ত বোনাস বিতরণ ও অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।