Loading...

  • 26 Jul, 2026

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদান অনন্য ও অসামান্য। তাঁর মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। শিল্পচর্চা, শিশুদের জন্য সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ, পাপেটশিল্পের বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম, আদর্শ ও চিন্তাধারা আগামী প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি চিত্রকলার পাশাপাশি শিশুতোষ অনুষ্ঠান, পাপেটশিল্প এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নির্মিত তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সৃজনশীল উদ্যোগ তাঁকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দেয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান। সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনস্ক পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশ ঘটে।

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এছাড়াও দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় ঘটেনি, বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞ, শিল্পভাবনা এবং সাংস্কৃতিক অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।