প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় বেশ চাপে ছিল বেলজিয়াম। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের বিপক্ষেও গোলশূন্য সমতায় সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইউরোপিয়ান দলটিকে। ফলে নকআউট পর্বে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রুপসেরা হতে শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের সামনে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে। বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন Leandro Trossard। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে বেলজিয়ানরা।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর রূপ নেয় রেড ডেভিলসরা। ৫০তম মিনিটে Hans Vanaken-এর পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ট্রসার্ড। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এরপর ৬৬তম মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক Kevin De Bruyne। তার গোলে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বেলজিয়ামের।
তবে ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে জাস্ট একটি গোল শোধ করলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ তখনও গ্রুপ শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গোল ব্যবধান ধরে রাখার চাপ ছিল বেলজিয়ামের ওপর। কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
৮৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই নিজের জাত চিনিয়েছেন Romelu Lukaku। কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন তিনি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লুকাকুর চমৎকার হোল্ড-আপ প্লে থেকে সুযোগ পেয়ে পঞ্চম গোলটি করেন Alexis Saelemaekers।
শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। এই জয়ের ফলে প্রয়োজনীয় গোল ব্যবধান অর্জন করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিদের।