নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স চালুর পরিকল্পনা করছে। কিছু দেশ এই নীতি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তেও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতকে লক্ষ্য করে আরোপিত কোনো করকে ওয়াশিংটন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, কোনো দেশ এ ধরনের কর কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিগুলোও কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক করনীতি গ্রহণ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।
যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্প্রতি ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স চালুর বিষয়ে আলোচনা বা প্রস্তুতি নেওয়া কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের উদ্দেশেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে United Kingdom-এর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দেশটিতে ২০২০ সাল থেকেই ২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স কার্যকর রয়েছে। এই করের আওতায় রয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো, যার মধ্যে রয়েছে Apple, Google, Meta এবং Amazon।
যুক্তরাজ্যের ট্রেজারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির জন্য করব্যবস্থাটির আর্থিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, এই বার্তাকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, যেকোনো দেশ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন ডিজিটাল কর আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের করনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। নতুন এই হুমকি সেই বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।