শুক্রবার দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং রংপুর বিভাগের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকে বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করবে।”
পরীক্ষা পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার বরদাশত করা হবে না। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থার চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আবশ্যিক এবং অভিন্ন বিষয়গুলোতেও একই ধরনের প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার মতে, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা চালু হলে বিভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অধিকতর সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে মাদ্রাসা পরিদর্শকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তদারকির বাইরে থেকে যায়। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোকে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।