গত কয়েক বছরে শাকিব খানকে দর্শকরা মূলত অ্যাকশনধর্মী, গ্যাংস্টার বা ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ চরিত্রে দেখে অভ্যস্ত। ‘তুফান’, ‘বরবাদ’ কিংবা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’—এসব সিনেমায় তিনি ছিলেন শক্তিশালী অ্যাকশন হিরো। কিন্তু ‘রকস্টার’-এ দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শাকিবকে। এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন একজন সংগীতশিল্পীর চরিত্রে, যার জীবনে রয়েছে সংগ্রাম, ভালোবাসা, জনপ্রিয়তা, একাকীত্ব এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতা। সিনেমার পোস্টার, টিজার ও গান প্রকাশের পর থেকেই বোঝা যাচ্ছে—এবার শুধুমাত্র অ্যাকশন নয়, অভিনয় দিয়েও দর্শকদের চমকে দিতে প্রস্তুত তিনি।
বিশেষ করে সিনেমার প্রথম পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পনিটেল চুল, শরীরে ট্যাটু, ছিপছিপে গড়ন আর হাতে গিটার—এই লুকে শাকিব খানকে আগে কখনো দেখা যায়নি। এরপর প্রকাশিত অ্যানিমেশন টিজার এবং ভিডিও টিজার দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় এমন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা খুব কমই দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ‘রকস্টার’ হতে পারে শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সাহসী পরীক্ষা।
সিনেমাটির আরেকটি বড় আকর্ষণ এর গান। ‘পিরিতি’ ও ‘আমাকে উড়িয়ে দাও’—এই দুটি গান ইতোমধ্যেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘আমাকে উড়িয়ে দাও’ গানটিতে একজন সংগ্রামী শিল্পীর উত্থানের গল্প ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, ছোট পরিসরে গান গাওয়া একজন তরুণ ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেশের জনপ্রিয় রকস্টার। এই যাত্রাপথে তার পাশে থাকেন একজন নারী, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর। গানটির ভিজ্যুয়াল, আবেগ এবং সংগীত দর্শকদের মধ্যে আলাদা অনুভূতি তৈরি করেছে।
এই সিনেমার মাধ্যমে নতুন নির্মাতা আজমান রুশো বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করছেন। তিনি মূলত বিজ্ঞাপন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বাস্তব জীবনের সংগীতশিল্পীদের অভিজ্ঞতা থেকে ‘রকস্টার’-এর গল্প তৈরি করেছেন। সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি এবং সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া। এই টিমের ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা সিনেমাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে সব কিছুর পরও একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দর্শক কি এই নতুন শাকিব খানকে গ্রহণ করবে? কারণ দেশের বড় একটি দর্শকগোষ্ঠী তাকে এখনও অ্যাকশন হিরো হিসেবেই দেখতে বেশি পছন্দ করে। সেই জায়গা থেকে ‘রকস্টার’ অনেকটাই আলাদা। এখানে বন্দুকের বদলে আছে গিটার, মারামারির বদলে আছে আবেগ, আর গ্যাংস্টারের বদলে আছে একজন শিল্পীর জীবনের গল্প। তাই সিনেমাটি শুধু শাকিব খানের জন্য নয়, বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘রকস্টার’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়; এটি একজন সুপারস্টারের নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের গল্প। যদি গল্প, সংগীত ও অভিনয়ের সমন্বয় দর্শকদের মন ছুঁতে পারে, তাহলে এটি হতে পারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা। আর যদি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় তারকারা নিজেদের পরিচিত ইমেজ ভেঙে ভিন্নধর্মী গল্পে কাজ করার সাহস পাবেন।