Loading...

  • 17 Jun, 2026

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি Bhishmadev Chakraborty-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি ওই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে একজন অভিজ্ঞ ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞকে আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং আইনগত শুনানি সম্পন্ন করার স্বার্থে এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

এদিকে মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যে কোনো দিন হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হতে পারে।

এর আগে গত ৯ জুন মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে স্বাক্ষর করার পর ডেথ রেফারেন্সটি উচ্চ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ কারণেই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আদালতে পর্যালোচনার জন্য আসে।

গত ৭ জুন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে আদালত সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। আদালত নির্দেশ দেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সোহেল রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না করায় আদালত এটিকে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার হিসেবে বিবেচনা করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, স্বপ্না আক্তার অপরাধ সংঘটনের পর স্বামীকে পালাতে সহায়তা করেছেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আদালত তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন।

এখন হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানির মাধ্যমে নিম্ন আদালতের রায়ের আইনগত বৈধতা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর উচ্চ আদালত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা, সংশোধন করা বা বাতিল করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

ট্যাগ:
রামিসা হত্যা মামলা, পল্লবী, শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা, হাইকোর্ট, স্টেট ডিফেন্স, সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার, মৃত্যুদণ্ড, ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল, সুপ্রিম কোর্ট, আইন মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy