ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত নিরসনে উদ্যোগী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। এই বার্তা নিয়েই তিনি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
ফ্রান্সের Évian-les-Bains শহরে আয়োজিত সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন তার পররাষ্ট্রনীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সতর্কতা ও উদ্বেগ বিদ্যমান। যদিও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিশ্বনেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে, তবুও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় অংশীদারদের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ন্যাটো নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সম্মেলনে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে তিনি ইরানের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সংকট প্রশমিত হওয়ার ফলে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান ইস্যুতে অতীতে জি-৭ সদস্যদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালির নেতারা সামরিক পদক্ষেপের আগে পর্যাপ্ত পরামর্শ না নেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পও ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন।
নতুন চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ইতোমধ্যে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশের পাশাপাশি ট্রাম্প এখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে চান। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর সঙ্গে তার পৃথক ফোনালাপ ইতিবাচক হয়েছে এবং উভয় পক্ষই আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনীয় সূত্র জানিয়েছে, জেলেনস্কি জি-৭ সম্মেলনের সুযোগে ট্রাম্প, ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ এবং পুতিনকে নিয়ে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ক্রেমলিনের কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সম্মেলনে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিমালা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত বিরল খনিজ উপাদানের বাজারে China-এর প্রভাব এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা জি-৭ নেতাদের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
ট্যাগ:
ডোনাল্ড ট্রাম্প, জি-৭ সম্মেলন, ফ্রান্স, ইরান, যুদ্ধবিরতি, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া, ভ্লাদিমির পুতিন, ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চীন, বিশ্ব রাজনীতি।