বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দুধ-পানি দিয়ে গোসল করে জামায়াতে ইসলামী ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ খালিদ হাসান তারেক (৩০) নামে এক ব্যক্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, তিনি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কর্মী ছিলেন না।
শেখ খালিদ হাসান তারেক উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির বটতলা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার (১৩ জুন) তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
তারেকের দাবি, ২০১১ সাল থেকে তিনি জামায়াতের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আন্দোলন, মিছিল-মিটিং এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছেন। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বুড়ির বটতলা কেন্দ্রে দলের পোলিং এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন কাজ করার পরও দলীয়ভাবে তিনি যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় তাকে অবহেলা করা হয়েছে বলে তার দাবি। বিশেষ করে মন্দির পাহারা দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান।
তারেক বলেন, ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বুড়ির বটতলা এলাকায় একটি সড়কের পাশে দুধ ও পানি দিয়ে গোসল করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি আর জামায়াত করবেন না এবং দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ভিডিওতে আবেগঘন বক্তব্যও দেন তিনি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তবে তার এ দাবির সঙ্গে একমত নন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ফকিরহাট উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল আল মাসুম বলেন, খালিদ হাসান তারেক জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্য বা কর্মী ছিলেন না। তিনি দলকে সমর্থন করতেন এবং ভালোবাসতেন মাত্র।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে ব্যক্তিগত বা স্থানীয় রাজনৈতিক ঘটনাগুলো এখন দ্রুত জনপরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। এ ঘটনাটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকী রূপ বলে মনে করছেন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
ট্যাগ
বাগেরহাট, ফকিরহাট, শেখ খালিদ হাসান তারেক, জামায়াতে ইসলামী, দলত্যাগ, ভাইরাল ভিডিও, দুধ দিয়ে গোসল, বাহিরদিয়া মানসা ইউনিয়ন, বুড়ির বটতলা, রাজনৈতিক আলোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বাংলাদেশ রাজনীতি, জামায়াত, ফেসবুক ভিডিও, স্থানীয় রাজনীতি