গর্ডনকে দলে নিতে ইউরোপের আরও কয়েকটি শীর্ষ ক্লাব আগ্রহ দেখিয়েছিল। বিশেষ করে জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ এবং ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলও তাকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালায়। তবে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনাই দ্রুততম সময়ে আলোচনা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।
দলবদল সম্পন্ন হওয়ার আগে বার্সেলোনা ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতা হয়। এরপর মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বার্সেলোনায় যান গর্ডন। সফলভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
বার্সেলোনার জার্সি গায়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজের উচ্ছ্বাস লুকাননি গর্ডন। তিনি বলেন, বার্সেলোনা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোর একটি এবং ছোটবেলা থেকেই এই ক্লাবের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
গর্ডনের ভাষায়, “ছোটবেলা থেকেই আমি বিশ্বাস করতাম একদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলব। এই ক্লাবে খেলতে পারা আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়। আমি জানি, এই ক্লাবের জার্সির আলাদা মর্যাদা আছে। এখানে খেলা মানেই বড় দায়িত্ব। তবে আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।”
বার্সেলোনার সমর্থকদের আরও মুগ্ধ করেছেন তার ভাষাগত দক্ষতা। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর তিনি স্প্যানিশ ভাষায় দেন। গর্ডন জানান, বহু বছর ধরেই তিনি স্প্যানিশ শেখার চেষ্টা করেছেন। কারণ তার বিশ্বাস ছিল, একদিন না একদিন তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলবেন।
তিনি বলেন, “নিউক্যাসলে আমার একজন স্প্যানিশ ফিজিও ছিলেন। আমি নিয়মিত তার সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতাম। তখনই বলতাম, একদিন বার্সেলোনায় খেলতে চাই। সেই লক্ষ্য থেকেই ভাষাটা শেখা শুরু করি।”
বার্সেলোনার কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই গর্ডনকে দলে আনা হয়েছে। নতুন মৌসুমে আক্রমণভাগকে আরও গতিশীল ও বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনছে কাতালান ক্লাবটি। মূলত বাম প্রান্তের আক্রমণভাগে খেললেও গর্ডন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও সমান কার্যকর। ফলে তাকে নিয়ে কৌশলগতভাবে একাধিক বিকল্প পাচ্ছেন ফ্লিক।
গর্ডনের আগমনে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইতোমধ্যে দলে রয়েছেন তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া। এই দুই ফুটবলারের সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে মুখিয়ে আছেন গর্ডন।
তিনি বলেন, “বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলতে পারা সবসময়ই বিশেষ কিছু। লামিনে, রাফিনিয়া এবং দলের অন্যদের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারব ভেবে আমি রোমাঞ্চিত। আমার বিশ্বাস, ভালো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেললে নিজের খেলাও আরও উন্নত হয়।”
বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক সম্পর্কেও প্রশংসা করেছেন ইংলিশ এই তারকা। গর্ডনের মতে, ফ্লিক শুধু একজন সফল কোচই নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও। তার সঙ্গে কথা বলার পর বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে গর্ডন বলেন, বার্সেলোনার হয়ে প্রতিটি শিরোপাই জিততে চান তিনি। তবে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। তিনি মনে করেন, বার্সেলোনার হয়ে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হবে।
এদিকে বার্সেলোনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন গর্ডন। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে। কোচ টমাস টুখেলের পরিকল্পনায়ও গর্ডন অন্যতম ভরসার নাম বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, অ্যান্থনি গর্ডনের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া শুধু একটি দলবদল নয়; বরং এটি বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। তরুণ, গতিশীল ও বহুমুখী এই ফুটবলারের ওপর ভর করেই আগামী মৌসুমে নতুন সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে কাতালান ক্লাবটি।