শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়–এর অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ থেকে নিয়োগে সুপারিশ ও চাপ আসছে। তবে তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “আমার ওপর এবং উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবেই স্বজনপ্রীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। শিক্ষকসহ সব নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এটি কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগেই ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক আর্থিক বরাদ্দও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, তবে কৃষিজমি নষ্ট করে নয়।” বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশ ও কৃষির ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় ঠাকুরগাঁওবাসীর নিজস্ব সম্পদ। সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এখন নিজ জেলায় থেকেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন, যা এ অঞ্চলের শিক্ষা ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।