গাজীপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো ও প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এক সাবেক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৫০০ (মানহানি) ও ৫০৬ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলার সিআর নম্বর ৫১৭/২৬। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও কলেজ সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান মাসুদ। মামলার একমাত্র আসামি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিকিৎসক ডা. কাজল আক্তার, যিনি আগে প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মরত অবস্থায় ডা. কাজল আক্তারের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক আইডি, বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং ইমেইল ব্যবহার করে কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর একটি বেনামী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বার্তা প্রচার করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি ‘Medical Admission Helpline 2025-2026’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে ভুয়া পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে হেয় করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বেনামী ইমেইল থেকে কলেজের অফিসিয়াল ইমেইলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হয়। একই মাসে ‘Probash World’ নামের একটি ফেসবুক পেজে কলেজ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় গত ৭ মার্চ কলেজ কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি, ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরগুলো ডা. কাজল আক্তারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
পরে ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করে গত ৫ এপ্রিল ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর ১০ মে আসামির কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করেছে, আইনি নোটিশের পরও অপপ্রচার বন্ধ না হয়ে বরং আরও বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. মুবিন খানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি এবং চাকরি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ মামলার বাদীপক্ষের দাবি। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।