Loading...

  • 25 May, 2026

রামিসা হত্যা মামলা শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালে বদলি, সাক্ষী ১৫ জন

রামিসা হত্যা মামলা শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালে বদলি, সাক্ষী ১৫ জন

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার তদন্ত শেষ করে রোববার (২৪ মে) বিকেলে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ঘটনার মাত্র দুদিন পর ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার আশ্বাস দেন। এরপর থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশেষ গতি আনা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, গত ১৯ মে সকালে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায় স্বপ্না আক্তার। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে ঘটনা গোপন করতে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গলা কেটে মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অপরাধে সহযোগিতা করেছেন।

মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্নাকে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের কথাও উল্লেখ করে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগ গঠন শেষে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে পারে। আইন অনুযায়ী শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।

এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার চায় এই মামলার বিচার দ্রুত শেষ হোক। তিনি জানান, ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার নৃশংসতা দেশবাসীকে নাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে। আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই মামলার দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সমাজে একটি শক্ত বার্তা যাবে।

ট্যাগ:
রামিসা হত্যা, শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনাল, সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার, পল্লবী, শিশু ধর্ষণ, হত্যা মামলা, আদালত, চার্জশিট, বাংলাদেশ সংবাদ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy