Loading...

  • 10 Jun, 2026

নতুন বাজেটে সিগারেট উপকরণে ৩০০% শুল্ক, স্বাস্থ্যসেবায় ভ্যাট ছাড় ও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর চিন্তা

নতুন বাজেটে সিগারেট উপকরণে ৩০০% শুল্ক, স্বাস্থ্যসেবায় ভ্যাট ছাড় ও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর চিন্তা

ধূমপান নিরুৎসাহিত করা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির উপকরণ এবং নিকোটিন আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচামালের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হলে সিগারেট উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে ধূমপান কমাতে সহায়ক হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর করনীতির পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে বেশ কিছু কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং এবং চোখের লেন্সের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিডনি রোগীদের জন্যও স্বস্তির খবর আসতে পারে নতুন বাজেটে। কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর কাস্টমস শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি এ খাতে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। ফলে ডায়ালাইসিস সেবার খরচ কমে রোগীরা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বিশেষ কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের আয় ও সেবার ওপর কর এবং ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত সীমা থেকে তা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক করদাতা সরাসরি উপকৃত হবেন।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনতেও নতুন বাজেটে কিছু পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব আসতে পারে। এতে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ব্যবসায়িক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে করপোরেট করহারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যমান করহার বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে করব্যবস্থায় কিছুটা ভারসাম্যও তৈরি হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সাধারণ করদাতাদের জন্য ঘোষিত সম্ভাব্য সুবিধাগুলো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy