Loading...

  • 10 Jun, 2026

নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সরকারি ছুটি চায় পরিবার, পাঠ্যপুস্তকে কবিতা-গান বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সরকারি ছুটি চায় পরিবার, পাঠ্যপুস্তকে কবিতা-গান বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তার পরিবার সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করতে পাঠ্যপুস্তকে তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব দাবি তুলে ধরেন কবির নাতনি খিলখিল কাজী।

খিলখিল কাজী বলেন, জাতীয় কবি হিসেবে নজরুল শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী মানুষের গর্ব। তার সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, কবির জন্মদিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চার আগ্রহ আরও বাড়বে এবং দিনটি জাতীয়ভাবে আরও মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হবে।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্মকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে তার রচনাবলী বিভিন্ন ভাষায়, বিশেষ করে ইংরেজিতে অনুবাদ করা জরুরি। তার মতে, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে শক্তিশালী বার্তা নজরুল তার সাহিত্য ও গানে তুলে ধরেছেন, তা বিশ্ববাসীর সামনে নতুনভাবে উপস্থাপন করা উচিত। এজন্য রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় তাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। দিনব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুরাগী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নজরুলের অবদান অনন্য ও চিরকালীন। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার লেখনী আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তারা মনে করেন, বর্তমান সমাজে সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নজরুলচর্চা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তারা।

এর আগে গত শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন কবির পরিবার ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, দর্শন ও সাংস্কৃতিক চেতনা দেশ-বিদেশে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নজরুলের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হলে শিক্ষা, গবেষণা, অনুবাদ ও সাংস্কৃতিক চর্চায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত সহজলভ্য করার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy