একদিকে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ মাতিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, অন্যদিকে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়ার দিনে হতাশ করেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে গোলের দেখা তো পানইনি, বরং পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। ফলে ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকার পারফরম্যান্সে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন রোনালদো। তবে ব্যক্তিগত সেই অর্জনের দিনে মাঠের পারফরম্যান্স তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই তিনি বলের জন্য অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু সতীর্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাননি।
পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ৯০ মিনিটে রোনালদো মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পূর্ণ সময় খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে এটি তার সর্বনিম্ন বল স্পর্শের রেকর্ড। প্রথমার্ধে তিনি মাত্র ১৭ বার বল ছুঁয়েছেন, যা মাঠে থাকা পর্তুগালের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় কম। একজন স্ট্রাইকার হিসেবে আক্রমণভাগে তার বিচ্ছিন্নতা ম্যাচের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
বল কম পাওয়ার পাশাপাশি কার্যকর আক্রমণ গড়তেও ব্যর্থ হয়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। ম্যাচে তার সফল পাসের সংখ্যা ছিল মাত্র ২১টি। পুরো ম্যাচে গোলমুখে তিনটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া দুটি পরিষ্কার সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা সমর্থকদের হতাশ করেছে।
৬৮ ও ৭৪ মিনিটে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু দুইবারই তার শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। যে ধরনের সুযোগ থেকে তিনি অতীতে অসংখ্যবার গোল করেছেন, সেসব মুহূর্তে এবার দেখা যায়নি তার চিরচেনা নিখুঁত ফিনিশিং। ফলে ম্যাচ শেষে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
রোনালদোর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছিলেন তিনি। বড় টুর্নামেন্টে তার গোলখরা এখন বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে শেষ ১০টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এই সময়ের মধ্যে তিনি মোট ৩৩টি শট নিয়েছেন। তবে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছেন মাত্র ১১টি। এমন পরিসংখ্যান রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের ক্ষেত্রে বেশ অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বয়সের প্রভাব, গতি কমে যাওয়া এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারে সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।
তবে দলের প্রধান তারকা হিসেবে এখনও রোনালদোর ওপর আস্থা রাখছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি বিশ্বাস করেন, অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড যেকোনো সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তবুও আসরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে যদি গোলখরা অব্যাহত থাকে, তাহলে তাকে মূল একাদশে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। আর সেই লড়াইয়ে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়েই থাকতে হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তবে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আগামী ম্যাচগুলোতে মাঠে আরও কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী রূপে দেখা দিতে হবে এই কিংবদন্তি তারকাকে।