২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করা দ্বিতীয় দল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বাগতিকরা গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করেছে। এর আগে প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল মেক্সিকো।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাঠে দর্শকদের সমর্থন নিয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয় তারা এবং তার সুফলও পায় ম্যাচের প্রথমার্ধেই।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফোলারিন বালোগুনের বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস। বল নিজের জালেই পাঠিয়ে দেন তিনি। আত্মঘাতী সেই গোলেই লিড পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
গোল পাওয়ার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। প্রথমার্ধের শেষদিকে এসে ব্যবধান দ্বিগুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে সের্হেনিও দেস্তের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
দুই গোলের সুবিধা নিয়ে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ সময় নিজেদের কাছেই রাখে স্বাগতিকরা। তবে কিছু রক্ষণাত্মক ভুলের কারণে কয়েকবার সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া। যদিও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফোলারিন বালোগুন। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে একক সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। পরে ওয়েস্টন ম্যাককেনির দারুণ একটি পাস থেকেও আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। ৮৮তম মিনিটে বালোগুন ও অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার হ্যারি সাউতারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি উভয় খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান। একই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোচিং স্টাফের সদস্য ইতালিয়ানোও সতর্কবার্তা পান।
যোগ করা সময়েও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নেস্টরি ইরানকুন্ডাকে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডস। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে হারানোর পর এবার অস্ট্রেলিয়াকেও পরাজিত করে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে পরবর্তী ম্যাচে জয়ের বিকল্প থাকবে না অস্ট্রেলিয়ার সামনে।
স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামা যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপপর্বে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে রয়েছে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারা নিজেদের শিরোপার দাবিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।