বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তার মতে, মেসি একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করতে পারেন বলে ধারণা ছিল, তবে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করবেন—এমনটা কল্পনাও করেননি তিনি।
এক কলামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জামাল বলেন, ৩৮ বছর বয়সেও মেসি যে ক্ষুধা, দক্ষতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য দেখিয়েছেন, তা ফুটবল বিশ্বের জন্য যেমন বিস্ময়কর, তেমনি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।
জামালের ভাষায়, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মেসি শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও উঠে এসেছেন। সামনে আরও ম্যাচ থাকায় তিনি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবেন, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় কৌতূহল।
তিনি বলেন, কাতার বিশ্বকাপে যে জাদুকরি মেসিকে দেখা গিয়েছিল, ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও যেন সেই একই মেসিকেই দেখা যাচ্ছে। মাঠে তার চলাফেরা, খালি জায়গা তৈরি করা, বল ছাড়া মুভমেন্ট এবং সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা এখনো আগের মতোই কার্যকর।
জামাল ভুঁইয়ার মতে, একজন মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি লক্ষ্য করেছেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা মেসিকে সামান্য জায়গা দিলেই তিনি সেটিকে বিপজ্জনক আক্রমণে রূপান্তর করছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষেও সেই চিত্রই দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, মেসির এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় শিক্ষা। বয়স কিংবা চাপ যে সাফল্যের পথে বাধা নয়, তা আবারও প্রমাণ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে মেসির অফ দ্য বল মুভমেন্ট এবং খেলার বুদ্ধিমত্তা থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন জামাল। তিনি জানান, দেশটির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব সোল দে মায়োতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় আর্জেন্টিনার ফুটবলকে তিনি অন্যভাবে মূল্যায়ন করেন।
তবে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত শুরুর পরও এখনই উচ্ছ্বসিত হতে নারাজ জামাল। তার মতে, দলটি সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো দলের মুখোমুখি হলে তাদের প্রকৃত শক্তি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে জয় দিয়ে শুরু করা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য মানসিক সুবিধা তৈরি করে।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আরেক শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্সের প্রশংসাও করেন জামাল ভুঁইয়া। তিনি মনে করেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ধীরে ধীরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো একজন গোলমেশিনে পরিণত হচ্ছেন।
জামালের মতে, এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে এবং দেজিরে দুয়ের সমন্বয়ে গড়া ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর ইউনিট। শুধু শুরুর একাদশ নয়, তাদের বদলি বেঞ্চের গভীরতাও অসাধারণ।
তিনি বিশ্বাস করেন, এবারের ফ্রান্স দলটি ২০২২ বিশ্বকাপের দলের চেয়েও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী। ফলে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বগুলোতে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সসহ শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে আরও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।