দ্রুত গোল করে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। তবে সেই লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটিকে। ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করলেও দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রথম গোলের পর ধীরে ধীরে তাদের আক্রমণের ধার কমে যায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। বিশেষ করে গোলের পর পুরো ম্যাচে পর্তুগাল আর কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে না পারা সমর্থকদের হতাশ করেছে।
অন্যদিকে পিছিয়ে পড়েও আত্মবিশ্বাস হারায়নি ডিআর কঙ্গো। তারা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে এবং প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে সমতাসূচক গোল আদায় করে নেয়। সেই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তও সৃষ্টি করে আফ্রিকান দেশটি।
বিরতির পর জয়সূচক গোলের খোঁজে মাঠে নামলেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল। বরং ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে কঙ্গোর পাল্টা আক্রমণে বিপদের মুখে পড়ে দলটি। কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আফ্রিকান প্রতিনিধিরাই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পারতো।
ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন সমর্থকরা। তবে পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র তিনটি শট নিতে সক্ষম হন এবং কোনো শটই জালে পাঠাতে পারেননি। ফলে গোলশূন্য থেকেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলারকে।
খেলা শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, দল জয়ের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। তবে ফুটবলে সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী ফল আসে না। তিনি স্বীকার করেন, পর্তুগালের ম্যাচ জেতার সুযোগ ছিল, আবার প্রতিপক্ষের কিছু আক্রমণে হারের শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তিনি বলেন, দল এমন সূচনা আশা করেনি, তবে প্রতিযোগিতা এখনও অনেক বাকি। সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে এবং পরের ম্যাচে ভালো ফল অর্জনের জন্য সবাইকে মনোযোগী থাকতে হবে।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের অবস্থান কিছুটা চাপে পড়েছে। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়ার বিকল্প নেই। তাই কঙ্গোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর হতাশা কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন রোনালদো ও তার সতীর্থদের সামনে।